ঢাকা | খ্রি.

সরকারি হাসপাতালে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে বায়োমেট্রিক ও জিও-ফেন্সিং

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং | Photo Card
সরকারি হাসপাতালে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে বায়োমেট্রিক ও জিও-ফেন্সিং ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিতির তথ্যকে বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই মতবিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পরিপত্রে নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ভালো কাজের পুরস্কার, দুর্বলতায় ব্যবস্থা

হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী—এমন নির্দেশনাও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফি আদায়

সরকারি হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার কারণে কোনোভাবেই যেন দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতালের আয় ব্যয় হবে সেবার মানোন্নয়নে

হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা যাবে। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত, রাজস্ব আদায় এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম কমিয়ে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান ও জবাবদিহিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের এসব নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, আগামী ২৫ আগস্টের পর্যালোচনায় তার একটি প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ফ্রেশ সিরামিকস-এর ফ্ল্যাগশিপ ডিসপ্লে সে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ফ্রেশ সিরামিকস-এর ফ্ল্যাগশিপ ডিসপ্লে সে