ঢাকা | খ্রি.

জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ হাসনাতের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 16, 2026 ইং | Photo Card
জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ হাসনাতের ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক:  জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ছয় মাসের সময়সীমাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া পরিকল্পনাগুলো বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দিতে ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এনসিপি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এবং তাদের কাছে সংকট সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসনাতের দাবি, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগেই জানতে পারতেন যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সময়ের জন্য মোট ১৫ দফা সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রস্তাবে সংকটের পেছনে ভুল সিদ্ধান্তগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোথায় কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হয়েছে। ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতামতও এসব বিষয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর টিমের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর টিমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার দাবি, সরকারের ৬২ জনের সভাসদের মধ্যে কেউ বিরোধী দলের প্রস্তাব বা নাগরিক সমাজের মতামত পর্যালোচনা না করে থাকলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হতাশাজনক।

তিনি বলেন, এখন প্রশ্ন শুধু নীতির নয়; সরকারের সংশ্লিষ্ট টিমের সক্ষমতা, যোগ্যতা ও কার্যকারিতারও প্রশ্ন রয়েছে।

এনসিপির ১৫ দফা প্রস্তাবের মধ্যে পাঁচটি ৩০ দিনের মধ্যে, ছয়টি ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এবং চারটি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, সরকারকে তাতেও সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান হাসনাত।

ফুয়েল ও কন্টিনজেন্সি প্ল্যান না থাকার অভিযোগ

প্রশাসনে গত ছয় মাসে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ নষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। এর ফলে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট জায়গায় ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তারা লবি গ্রুপের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায়ও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার দাবি, ঘটনাটি নাশকতা নাকি অবহেলার কারণে ঘটেছে, সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।

মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

ডলার সংকট ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি কেনা সম্ভব হচ্ছে না—সরকারের এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন হাসনাত। তিনি ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা যাবে।

হাসনাতের দাবি, এ ব্যবস্থা চালু করতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। শুধু এসএলএ ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করলেই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের সময়সীমা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, সরকার সময়সীমা দিয়েছে, তাই সেই সময়ের হিসাবও তারা মেনে নিয়েছেন। তবে এই সময়ের ঘড়ি বিরোধী দলের নয়, সরকারের—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

‘ছয় মাস পর জবাব দিতে হবে’

কৌশলগত খাতে ব্যর্থ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, শুধু ‘আমার পরিকল্পনা আছে’ বললেই পরিকল্পনা প্রমাণিত হয় না; বাস্তবায়ন সক্ষমতাও দেখাতে হয়।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলটিমেটাম বা চ্যালেঞ্জ না দিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি করবেন—এটাই প্রত্যাশিত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ কেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের মুখে পড়েছে এবং কেন রাষ্ট্র অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে—এসব প্রশ্নের জবাব সরকারের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

পোস্টের শেষ দিকে হাসনাত বলেন, সংকট সমাধানের পরিকল্পনা তাদের হাতে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—সমাধানের অভাব ছিল, নাকি তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাবেই দেশ অন্ধকারে ছিল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
পাকিস্তানের সিন্ধু ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ : রাজনাথ সিং

পাকিস্তানের সিন্ধু ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ : রাজনাথ সিং