ঢাকা | খ্রি.

সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক সড়কের কাজ ধীর, ভোগান্তিতে পর্যটক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 16, 2026 ইং | Photo Card
সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক সড়কের কাজ ধীর, ভোগান্তিতে পর্যটক ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে যাওয়ার সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি। বিভিন্ন স্থানে সড়ক খুঁড়ে রাখায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সোয়া পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে পার্কে যেতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে সড়কে কাদা জমে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফকিরহাটে অবস্থিত সরকারি পর্যটনকেন্দ্র বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ৫ হাজার ২৭০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির পিচ বহুদিন আগেই নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় সড়কটি পুনর্নির্মাণে গত বছরের মে মাসে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৌহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সড়ক ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য দুটি প্রকল্পে মোট আট কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোনো পিচঢালা সড়ক ভেঙে সম্পূর্ণভাবে খুঁড়ে ফেলে। এতে মাটি ও কংক্রিট বেরিয়ে আসায় পার্কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি কাজের গতি নিয়েও অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

গত শুক্রবার সরেজমিনে পর্যটনকেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। তবে সড়কের দুরবস্থায় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কুমিল্লা থেকে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সৈকত আকবর ও তাঁর বন্ধু মো. ফখরুল ইসলাম জানান, সকালে সীতাকুণ্ডে এসে তাঁরা হেঁটে চন্দ্রনাথ ধাম পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন। পরে আরও কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে গিয়ে সহস্রাধারা ঝরনাসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও সড়কের বেহাল অবস্থায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, কাদায় পরিণত হওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মানিকগঞ্জ থেকে আসা কলেজছাত্র মো. লিংকন ও তাঁর সহপাঠী উর্মি আক্তারও সড়কটির দুরবস্থা নিয়ে অসন্তোষ জানান। তাঁদের ভাষ্য, সড়কের দুই পাশে সবুজ গাছপালা থাকলেও কাদামাখা ভাঙা রাস্তার কারণে সেই সৌন্দর্য উপভোগে বাধা তৈরি হচ্ছে।

পার্কের ইজারাদার টেকনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশীদার ইকবাল হোসেন ও হাসান তারেক বলেন, সড়কটি ভালো থাকলে বিভিন্ন যানবাহন পার্কের ওপর পর্যন্ত যেতে পারত। এতে গাড়ির টিকিট থেকে তাঁদের আয়ও হতো। কিন্তু সড়ক নষ্ট থাকায় সেই আয় বন্ধের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও অসন্তুষ্ট হচ্ছেন।

বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ফরেস্টার মো. আলাউদ্দিন জানান, ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো অনেক কাজ বাকি।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আলমগীর বাদশা বলেন, ৫ হাজার ২৭০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য গত বছরের মে মাসে তৌহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কাজ শুরু করার পর বর্ষায় নির্মাণসামগ্রী ভেসে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির মুখে পড়ে। এ কারণে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. কবির হোসেন বলেন, দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ শুরু করেছিলেন। তবে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে। প্রবল বর্ষণে করা কাজের একটি অংশ ভেসে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আবার কাজ শুরু হলে দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সীতাকুণ্ডের ইউএনও ফখরুল ইসলাম বলেন, সড়কটির অবস্থা যে খারাপ, তা সত্য। কাজটি এলজিইডি তদারকি করছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি কী অবস্থায় রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স