ঢাকা | খ্রি.

‘প্রেশার কুকার’ বোমায় রিমোট, জঙ্গিদের নতুন কৌশল নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 15, 2026 ইং | Photo Card
‘প্রেশার কুকার’ বোমায় রিমোট, জঙ্গিদের নতুন কৌশল নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পরপর ‘প্রেশার কুকার’ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পুলিশের মধ্যে। বিশেষ করে এসব বোমার সঙ্গে দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটানোর ‘রিমোট ডিভাইস’ ব্যবহারের তথ্য পাওয়ায় উগ্রবাদীদের বোমা তৈরির কৌশল নিয়ে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বোমার সঙ্গে নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারিগরদের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দেশে জঙ্গি তৎপরতা আছে কি না—এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার ভিন্ন বক্তব্যের কয়েক মাস পর পুলিশ এখন জঙ্গিদের হাতে দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা থাকার তথ্য সামনে আনছে।

এর মধ্যে আশুলিয়ার চারাবাগে একটি চায়ের দোকানে ফেলে যাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ বোমার সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটানোর যন্ত্র বা ‘রিমোট’ উদ্ধার করে পুলিশ। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করা আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমাকেও দূরনিয়ন্ত্রিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারিগরদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, যিনি ‘বোমারু মামুন’ নামে পরিচিত, প্রায় এক দশক আগেও ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘পাইপ বোমা’ তৈরি করতেন।

২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে যে বোমা বিস্ফোরণে একজন ‘আত্মঘাতী’ নিহত হওয়ার কথা সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সেটিও মামুনের তৈরি দুটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমার একটি ছিল।

ওই সময় ধারাবাহিক অভিযানে নব্য জেএমবির কয়েকজন বোমা কারিগর নিহত হন। মামুন তখন থেকেই কারাগারে ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পান মামুন। এরপর দল গুছিয়ে তিনি আবার বোমা তৈরির কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে এবার ‘প্রেশার কুকার’ বোমার সঙ্গে ‘রিমোট ডিভাইস’ যুক্ত থাকার বিষয়টি পুলিশকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

তদন্তকারীদের মতে, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যাওয়া, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে রাজধানীর সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামুন ও তার শিষ্য আরিফ ওরফে ইমরানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনার পর থেকেই মামুনকে খুঁজছিল পুলিশ। পরে গত জুলাইয়ে সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার মধ্যে ‘পাইপ বোমা’ রেখে যাওয়া এবং আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে ‘প্রেশার কুকার’ বোমা ফেলে রাখার ঘটনাতেও মামুন-আরিফদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে তার আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সন্ধ্যা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয় এবং রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, তল্লাশিতে ওই বাড়ি থেকে বেশ কিছু পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় ‘রিমোট ও কন্ট্রোলার’ উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করেছে পুলিশ।

মামলায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ শ্যামপুরে আরিফের ভাড়া বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, পটাশিয়াম নাইট্রেট, বারুদ মিশ্রিত কটন বাড, বৈদ্যুতিক তার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ, বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং জিহাদ সংক্রান্ত কয়েকটি বই উদ্ধার করা হয়েছে।

রাতভর অভিযানের পর বুধবার সকালে সাভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমার সন্ধান পায় পুলিশ।

এলাকাবাসীর সন্দেহ হয় মঙ্গলবার রাত থেকেই সেখানে পড়ে থাকা একটি নীল রঙের ড্রাম নিয়ে। পরে ড্রামের ভেতরে ইলেকট্রিক টেপে মোড়ানো ‘প্রেশার কুকার’ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সেটি বের করে মাঠে রেখে দেন। পরে কেউ ড্রামটি নিয়ে যায়।

সাভার থেকে উদ্ধার হওয়া ওই দুটি বোমাই নিষ্ক্রিয় করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা।

সিটিটিসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দুটি বোমাই ছিল রিমোট নিয়ন্ত্রিত ‘প্রেশার কুকার’ বোমা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আশুলিয়ার চারাবাগের চায়ের দোকানে ফেলে যাওয়া বোমাটি একটি ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল। ব্যাগ থেকে একটি রিমোট পাওয়া যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের রিমোট মোটরসাইকেলের ইলেকট্রিক লকে ব্যবহার করা হয় এবং সেটি দিয়েই বোমাটিতে বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব ছিল।

সাভার থানার লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ বোমাটিও রিমোট নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে এর রিমোট উদ্ধার করা যায়নি।

সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা জানান, মসজিদের মাঠে পাওয়া বোমাটির রিমোট ছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে সেটি পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে মসজিদের পেছনে একটি ড্রামের মধ্যে ‘প্রেশার কুকার’ বোমাসহ আরও কিছু জিনিস রেখে যাওয়া হয়। স্থানীয়রা সন্দেহ করে ড্রামের ভেতরে টেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার দেখতে পান এবং সেটি বের করে মাঠে রেখে দেন।

বোমাটি সারা রাত মাঠে পড়ে ছিল। আনুমানিক ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এসে নীল রঙের ড্রামটি নিয়ে যায়।

ওই কর্মকর্তা ধারণা করছেন, সাভারের শ্যামপুরে আরিফের ভাড়া করা আস্তানায় যখন পুলিশের অভিযান চলছিল, তখন অভিযানের ভয়ে ড্রামটি মাঠে ফেলে রাখা হতে পারে। পরে ভোরে ড্রামটি আবার নিয়ে গেলেও প্রেশার কুকার বোমাটি মাঠেই থেকে যায়।

পুলিশের ধারণা, তারা হয়তো ভেবেছিল বোমাটিও ড্রামের ভেতরেই রয়েছে। সে কারণে বোমার রিমোট ড্রামের মধ্যেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরের আলীমুজ্জামান ব্রিজের দক্ষিণ অংশে একটি ব্যাগের ভেতর থেকে বোমা উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। সেটি নিষ্ক্রিয় করার পর পুলিশ জানিয়েছিল, বোমাটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত ছিল।

পরদিন ১১ জানুয়ারি বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে ফরিদপুরে যায় পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল। দলের পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এটি রিমোট ডিভাইসের মাধ্যমে পরিচালিত একটি শক্তিশালী বোমা।

এদিকে বুধবার সকালে বরিশাল আদালতের ফটকে একটি ‘দুর্বল’ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে হঠাৎ বিস্ফোরণের পর ধুলা ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওতে কাউকে বোমাটি ছুড়তে দেখা যায়নি। ফলে সেটি দূরনিয়ন্ত্রিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে বরিশাল নগর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ওই বিস্ফোরণ রিমোট কন্ট্রোলড বোমার কারণে হয়নি। ঘটনাস্থলে কোনো তার, ব্যাটারি কিংবা আইইডি তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণও পাওয়া যায়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিনের ঢাকনাযুক্ত একটি কাঁচের আচারের বয়ামের মধ্যে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে ওই বোমা বা পটকা তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, সেটি কেউ ছুড়ে মেরে থাকতে পারে, যা সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে স্পষ্ট হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে অন্য দিকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তবে সাভার ও আশুলিয়া থেকে পরপর উদ্ধার হওয়া দুটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা এবং মতিঝিলে ছাতার ভেতরে পাওয়া ‘পাইপ বোমা’র গঠন দেখে পুলিশের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব বোমা বোমারু মামুনের ‘সিগনেচার কাজ’। এর আগে গ্রেপ্তারের পর মামুন তার জবানবন্দিতে ‘সুইসাইডাল ভেস্ট’ তৈরির কথাও জানিয়েছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এর আগে ‘রিমোট কন্ট্রোলড’ বোমার ব্যবহার তারা দেখেননি। তবে বিভিন্ন সময়ে উগ্রবাদীরা দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানা যায়।

আগের সময়ের হরকতুল জিহাদ বা জেএমবির বোমা তৈরির কারিগররা আইইডিতে ‘টাইম ডিভাইস’ ব্যবহার করতেন। এসব ডিভাইসে এক ধরনের ‘ডিলে সার্কিট’ থাকত। সার্কিটের সুইচ চাপ দিয়ে সেট করে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পর সেটি ডেটোনেটরকে ইগনাইট করত এবং বিস্ফোরণ ঘটত। এসব ব্যবস্থায় ডেটোনেটরের পাওয়ার সোর্স হিসেবে ব্যাটারি ব্যবহার করা হতো।

২০০১ সালের রমনার বটমূলের বোমা হামলা এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলায় এ ধরনের ‘টাইম ডিভাইস’ ব্যবহারের কথা জানা যায়।

রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমার ব্যবহার না হলেও এর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা জানিয়েছিল পুলিশ।

২০১২ সালের ১৭ জুলাই বোমা বিস্ফোরণে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এক নারী সহকারী প্রোগ্রামার আহত হন। ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনার শিকার আয়েশার একজন সহকর্মী তার ব্যাগে ‘সেলফোন বোমা’ রেখে দিয়েছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপর প্রান্ত থেকে ওই বাটন ফোনে কল আসার সঙ্গে সঙ্গে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পারার ক্ষোভ থেকেই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল বলে তখন পুলিশ জানিয়েছিল।

মামুনের পূর্বাপর

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেল ওলিও মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মামুন। তবে চলতি বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকার একটি আদালত মামুনসহ ওই মামলার ১১ আসামিকেই খালাস দেন।

রায়ের পর্যালোচনায় বিচারক লিখেছেন, ‘আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা-কর্মী।’

তবে ওলিও মামলায় দেওয়া নিজের জবানবন্দিতে মামুন জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া মাহফুজ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি বোমা তৈরির বিভিন্ন কৌশল শিখেছিলেন। নব্য জেএমবির গোপন গ্রুপে মাহফুজ ‘সবুজ পাখি’ নামে পরিচিত ছিলেন। পরে ২০১৭ সালের মার্চে মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে পুলিশের অভিযানে মাহফুজ নিহত হন।

সে সময় ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসপন্থী ‘নব্য জেএমবি’র প্রধান বোমা কারিগর হিসেবে মাহফুজ ওরফে সবুজ পাখি, ভাসানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইব্রাহিম ওরফে খাব্বাব আল মিশরী এবং নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুনের নাম উঠে আসে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খাব্বাব আল মিশরী ছিলেন মিশরের নাগরিক। তাকে আল কায়েদার প্রধান বোমা প্রস্তুতকারী রসায়নবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। ২০০৮ সালে পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।

বোমায় ব্যবহৃত রাসায়নিক মিশ্রণ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় ইব্রাহিমকে ‘খাব্বাব আল মিশরী’ নাম দেওয়া হয়। অন্যদিকে মাহফুজ বোমার সার্কিট সম্পর্কে দক্ষ ছিলেন। এই দুজন নিহত হওয়ার পর নব্য জেএমবি মামুনকে নিরাপদে রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছিল বলে জানা যায়।

২০১৭ সালে মামুনকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। ঝিনাইদহের মহেশপুরে তাকে ধরতে গিয়ে জঙ্গি হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।

হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণের মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতে মামুন ‘প্রেশার কুকার’ বোমার পাশাপাশি গ্রেনেড এবং ‘সুইসাইডাল ভেস্ট’ তৈরির কথাও বলেছিলেন। একই জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০১৭ সালেই ধামরাইয়ে রথযাত্রায় বোমা হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এর জন্য রেকিও করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

মামুনের জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট হোটেল ওলিওতে তার তৈরি দুটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমা দুটির আনুমানিক ওজন ছিল ৩০ কেজি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভালুকার একটি বাড়িতে বসে বোমা দুটি তৈরি করে চালের বস্তায় ঢুকিয়ে বাসের বক্সে করে ঢাকায় আনা হয়েছিল। পরে মহাখালী ফুটওভার ব্রিজের নিচে সাইফুলের কাছে বোমা দুটি হস্তান্তর করেন তিনি। ওলিওতে বিস্ফোরণে সেই সাইফুল নিহত হন।

এখন পুলিশ বলছে, গত জুলাইয়ে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘উল্টো রথযাত্রা’র পথে যে ‘পাইপ বোমা’ রাখা হয়েছিল, সেটিও মামুনের তৈরি। একটি ছাতার ভেতর এমনভাবে বোমাটি স্থাপন করা হয়েছিল যে কেউ কৌতূহলবশত ছাতার বোতামে চাপ দিলে সেটি বিস্ফোরিত হতো। ওই বোমার রিমোট অবশ্য উদ্ধার হয়নি।

বুধবার সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, এসব ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

মামুনকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
বাবা-মা হলেন রাজকুমার-পত্রলেখা

বাবা-মা হলেন রাজকুমার-পত্রলেখা