নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ। জাতীয় সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সংসদ সদস্যরা ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনেই বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। এরপর গেজেট প্রকাশের পর আগামীকাল বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। অসুস্থতার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারবেন না বলে জানা গেছে।
দেশে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপরের নির্বাচনগুলোতে কেবল সরকারদলীয় প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী দেওয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩৪৯ সংসদ সদস্য ভোট দেবেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসন বর্তমানে শূন্য। এর বাইরে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯ জন।
সংরক্ষিত আসনসহ সংসদে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭ জন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর ৭৭, স্বতন্ত্র ৮, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণপরিষদ, খেলাফত মজলিস ও জাগপার একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেওয়ার বিষয়টি এবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন। বুধবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সিইসি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন। তাদের ভোট দেওয়ার দৃশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা
ইসি জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট অংশ। মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন।
ব্যালটের অপর অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্য তার পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট প্রদান করবেন। পরে ব্যালট পেপার নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।
৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবেই নির্ধারিত সময়ের আগেই আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল