ঢাকা | খ্রি.

সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 18, 2026 ইং | Photo Card
সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। নাট্যরচনায় নিজস্ব ভাষা, আঙ্গিক ও দর্শনের মাধ্যমে বাংলা নাটকে তিনি যে স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছিলেন, জন্মবার্ষিকীর আয়োজনে তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—তার বিপুল নাট্যভান্ডার দেশের মঞ্চে এখনো কেন তুলনামূলক কম দেখা যায়?

সংশ্লিষ্ট নাট্যকর্মীদের মতে, সেলিম আল দীনের নাট্যভাষা ও বর্ণনাধর্মী নির্মাণরীতি প্রচলিত মঞ্চনাটকের চেয়ে আলাদা। ফলে তার নাটক মঞ্চায়নের জন্য প্রয়োজন গভীর পাঠ, গবেষণা এবং দেশীয় নাট্যঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা। এ কারণেই অনেক নাট্যদল তার নাটক মঞ্চায়নে আগ্রহী হলেও বাস্তবে নিয়মিত চর্চার সংখ্যা কম।

নাট্যাভিনেতা, নির্দেশক ও স্বপ্নদলের প্রধান জাহিদ রিপন বলেন, সেলিম আল দীন চর্চার জন্য গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিস্তৃত পঠন-পাঠন প্রয়োজন। বাংলার দীর্ঘ নাট্যঐতিহ্য, উপনিবেশের প্রভাবে নাট্যবিবর্তনের বিচ্ছিন্নতা এবং উপনিবেশ-পরবর্তী সময়ে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বাংলা নাট্যরীতি বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়া সেলিম আল দীনের নাট্যচর্চা করা কঠিন।

তবে সেলিম আল দীনের নাটক কেবল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থিয়েটার কিংবা স্বপ্নদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাট্যনির্দেশক ইউসুফ হাসান অর্ক। তার মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, নাট্যদল, গ্রাম থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তার নাটক মঞ্চায়ন করেছে। ফলে তার নাট্যচর্চা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে আছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না।

জন্মবার্ষিকীতে নানা আয়োজন

সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৮ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার আয়োজিত তিন দিনের নাট্যোৎসব।

রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বক্তৃতা ও নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ‘সেলিম আল দীন সংগ্রহশালা’। এর অংশ হিসেবে ‘আলাপে সেলিম আল দীন ও নাটকের রাজনীতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে একক বক্তব্য দেন আজফার হোসেন। একই আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ মঞ্চস্থ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘ধাবমান’।

এদিকে নাট্য সংগঠন স্বপ্নদলও আয়োজন করছে তিন দিনের নাট্যোৎসব। মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ আয়োজন করেছে দিনব্যাপী কর্মসূচি।

নাটকে নতুন শিল্পতত্ত্ব

১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীর সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সেলিম আল দীন। পাশ্চাত্য শিল্পের প্রচলিত বিভাজনকে প্রশ্ন করে বাংলার হাজার বছরের লোকজ ও নন্দনতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের আলোকে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব নাট্যদর্শন। তার এই দর্শন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ নামে পরিচিত।

নাটকের পাশাপাশি চিত্রনাট্য, অনুবাদ, কবিতা, গান ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সংবাদ কার্টুন’, ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘মুনতাসির ফ্যান্টাসী’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘বাসন’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘হাতহদাই’, ‘প্রাচ্য’, ‘নিমজ্জন’, ‘বনপাংশুল’, ‘স্বর্ণবোয়াল’, ‘পুত্র’ ও ‘ধাবমান’।

২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় মারা যান বাংলা নাটকের এই শক্তিমান স্রষ্টা। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে সমাহিত করা হয়।

সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকীর আয়োজন ঘিরে আবারও সামনে এসেছে তার নাট্যচর্চার বিস্তার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। নাট্যকর্মীদের প্রত্যাশা, তার নাটককে নির্দিষ্ট কয়েকটি দল বা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের আরও বেশি মঞ্চে নিয়মিতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।:::


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
‘যারা দেশে আছেন তারা যেন কেউ পালাতে না পারেন -চুয়াডাঙ্গায় দু

‘যারা দেশে আছেন তারা যেন কেউ পালাতে না পারেন -চুয়াডাঙ্গায় দু