ঢাকা | খ্রি.

ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত ইরানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 13, 2026 ইং | Photo Card
ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত ইরানের ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কৌশল বিবেচনা করছে ইরান—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি।

নাকদি বলেন, দীর্ঘ সময় সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতির চাপ তৈরি করতে চায় তেহরান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য মূল্য বিবেচনা করে। মঙ্গলবার পিবিএস নিউজআওয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা ইরানের জন্য একটি কৌশল হতে পারে।

তার ভাষ্য, সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে ইরান তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হামলা প্রতিহত করার মতো প্রতিরোধক্ষমতাও গড়ে উঠবে। নাকদি বলেন, এর একটি পথ হতে পারে প্রেসিডেন্টের পরবর্তী মেয়াদ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষয়ক্ষতির চাপ অব্যাহত রাখা।

নাকদির মতে, এর ফলে অন্য কোনো দেশ ইরানে হামলার পরিকল্পনা করলে তারা বুঝতে পারবে যে এমন পদক্ষেপের জন্য তাদেরও মূল্য দিতে হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সম্ভাব্য সময়কাল নিয়ে এখন পর্যন্ত এটিই নাকদির সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য। এর আগে দেশটির কোনো জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি যুদ্ধের সময়সীমাকে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন কি না, তা স্পষ্ট ছিল না।

ইরানের লক্ষ্য ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, তেহরানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু ইরানে হামলার সাহস না পায়। তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে মনে করছে তারা যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি।

নাকদি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে আরও অভিজ্ঞ করে তুলবে। পাশাপাশি মার্কিন পক্ষের ওপর এমন ক্ষয়ক্ষতি চাপানো সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। চলমান সংঘাত থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরান আগে যতটা শক্তিশালী মনে করত, বাস্তবে দেশটির সামরিক সক্ষমতা তার তুলনায় কম বলে তারা দেখতে পেয়েছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়েও নাকদি সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে সক্ষম। দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। নাকদির দাবি, সংঘাত কয়েক বছর ধরে চললেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে।

এমনকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত একসময় শেষ হয়ে গেলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন নাকদি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি এমন পরিস্থিতি আসে যে ইরানের হাতে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট নেই, তখনই তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ক্ষপেণাস্ত্র না থাকলে কীভাবে ইরান আরও বিপজ্জনক হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে এবং এসব স্বার্থ সহজেই ধ্বংস করা সম্ভব। তবে তিনি কোন কোন অর্থনৈতিক স্থাপনা বা স্বার্থের কথা বলছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। একইভাবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে ইরান কীভাবে হামলা চালাতে পারে, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
বিএনপির লক্ষ্য দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন

বিএনপির লক্ষ্য দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন