নিউজ বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরদার হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪০৬ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। এ সময় স্বর্ণের দাম ১০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ৪ হাজার ৩৮৭ দশমিক ২২ ডলার অতিক্রম করে। দিনের শুরুতে বুলিয়নের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৫০ ডলারে স্থির হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির তথ্য ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজারের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলেছে। এর আগে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছিল। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই নিয়ন্ত্রিত ধারা ফেডের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে সুদহার বাড়ানোর চাপ কমিয়েছে।
ম্যারেক্স-এর বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, “সিপিআই তথ্যটি বাজারের জন্য ইতিবাচক। এটি আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। পাশাপাশি দুর্বল ডলার এবং প্রযুক্তিগত সূচকও স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করেছে।”
সুদহার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন প্রায় ৪০ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে ছিল ৪৬ শতাংশ।
গত ২৯ জুলাই ফেড তাদের নীতি সুদহার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে। তবে ভোটদানকারী ১২ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে তিনজন সুদহার বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। সাধারণত সুদহার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
নজর পিপিআই তথ্যের দিকে
বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাওয়া উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তথ্য ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও প্রভাব ফেলছে
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ঘিরে পৃথক হামলার খবর বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এডওয়ার্ড মেয়ার সতর্ক করে বলেন, “যদি নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়, তাহলে তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, ফেড সুদহার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে এবং স্বর্ণের বাজারও চাপের মুখে পড়তে পারে।”
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৬৫ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫৯ দশমিক ৫০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৬৭ দশমিক ২৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল