ঢাকা | খ্রি.

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জামায়াতের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং | Photo Card
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জামায়াতের ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক: চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জনগণের দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। সরকার চাইলে জরুরি খাতে বরাদ্দ থাকা অর্থ ব্যবহার করে দ্রুত সংকট মোকাবিলা করতে পারে। সমস্যা সমাধানে ১০ বছর বা দীর্ঘ সময়ের অজুহাত না দেখিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে না। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, ভূতুড়ে বিলের নামে হয়রানি বন্ধ এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অপচয় বন্ধ করতে হবে।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকার সিন্ডিকেট ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। এসব বন্ধ করা গেলে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। কিন্তু সরকারের সেদিকে নজর নেই; বরং তাদের নজর বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের কেউ সংকট সমাধানে ১০ বছর, আবার কেউ দুই বছরের সময়ের কথা বলছেন। তাদের বক্তব্যের মধ্যেই কোনো সামঞ্জস্য নেই।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের দুর্ভোগ ও সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবি জানান।

তিনি জানান, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে ওই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে তার ফলাফল জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তারা সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চান না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। সকালে চুলা জ্বালাতে না পারা পরিবার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিক এবং সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে না পারা উদ্যোক্তারা এর সরাসরি শিকার। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপ

মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপ