যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ শুক্রবার (২১ আগস্ট) জানিয়েছে, পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো চলতি সপ্তাহেই নতুন আইন কার্যকরের ঘোষণা দেন। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমে আইনটি ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
আইনে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাকের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে মুখ ঢেকে রাখেন এমন মুসলিম নারীদের পোশাককে কেন্দ্র করেই বিধানটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন আইনে কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড়ও রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত, পেশাগত, শৈল্পিক কিংবা আবহাওয়াজনিত প্রয়োজন হলে মুখ ঢাকার অনুমতি থাকবে। একইভাবে উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন এবং বিমানের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
এ ছাড়া কারও লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে তাকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট সেগুরো বলেন, মানুষের পরিচয় প্রকাশ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মতে, মুখ খোলা রাখা পর্তুগিজ সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম ভিত্তি।
তবে আইনটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার, লৈঙ্গিক সমতা এবং সামাজিক সংহতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন বলে মন্তব্য করেন সেগুরো।
ডানপন্থী শেগা পার্টির উত্থাপিত বিলটির চূড়ান্ত সংস্করণ গত জুলাইয়ে পার্লামেন্টে অনুমোদন পায়। এতে সমর্থন দেয় মধ্য-ডানপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট ও কট্টর ডানপন্থীরা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দেয়। বিপরীতে বামপন্থী দলগুলো বিলটির বিরোধিতা করে।
পর্তুগালের কয়েকটি আইনজীবী সংগঠন আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে সোশ্যালিস্ট পার্টি, লিভরে ও কমিউনিস্ট পার্টি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের আইন ইসলামবিদ্বেষ উসকে দিতে পারে।
ইউরোপে প্রকাশ্য স্থানে পূর্ণ মুখাবরণ নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ২০১১ সালে ফ্রান্স প্রথম দেশ হয়। এরপর বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও লুক্সেমবার্গসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল