ঢাকা | খ্রি.

রাকসু জিএসের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 19, 2026 ইং | Photo Card
রাকসু জিএসের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজেস্ব প্রতিবেদক:  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট রাকসুর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মতিহার আমলি আদালতে মামলাটি করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। ওই দিনই আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহা. সালাহউদ্দিন বলেন, ১০ আগস্ট আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। আদালত সেদিনই বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদুল হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় জিএসের ২০২ নম্বর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে জড়ো হয়ে জোরপূর্বক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কার্যালয়ে প্রবেশের পর তারা সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সময়ে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয়। নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মাহমুদুল হাসান মাহিন লাঠি দিয়ে মেহেদীর বাম কানে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সরকার কোনো ‘গেম’ খেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সম্পাদকদের সম্পৃক্ত করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনার পেছনে যা ঘটেছিল

এর আগে গত ২৭ জুলাই ছাত্রলীগকর্মী পরিচয়ে অভিযোগ দেওয়া আনাস আহমেদকে প্রক্টর দপ্তরে মারধরের অভিযোগ ওঠে সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর আনাসসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী রাকসু ভবনে প্রবেশ করে জিএস আম্মারসহ কয়েকজন নেতাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন রাকসু নেতারা।

একই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মাহমুদুল হাসান মাহিন ও আবুল হাসানকে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে মারধরের শিকার আনাস আহমেদ ও আবুল হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করে শাহ মখদুম থানা পুলিশ। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর ৩০ জুলাই সালাহউদ্দিন আম্মারসহ রাকসু ও শিবিরের নয় নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন মারধরের শিকার মাহমুদুল হাসানের বাবা।

রাকসু জিএসের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে করা সর্বশেষ মামলাটি ওই ধারাবাহিক ঘটনারই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন

৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন