ঢাকা | খ্রি.

শৈশবে কম চিনি, কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 18, 2026 ইং | Photo Card
শৈশবে কম চিনি, কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

 নিউজ বাংলা ডেস্ক: গর্ভাবস্থা ও জীবনের প্রথম দুই বছরে খাদ্যতালিকায় চিনির পরিমাণ কম থাকলে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী নিউরোলজি-তে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া ৬৪ হাজারের বেশি মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যে চিনি রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার আগে ও পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার হার তুলনা করেন।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় এবং জন্মের পর প্রথম এক বছর তুলনামূলক কম চিনি গ্রহণের পরিবেশে বেড়ে ওঠা ব্যক্তিদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ২১ শতাংশ কম ছিল। আর জীবনের প্রথম দুই বছর কম চিনি গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি প্রায় ২৩ শতাংশ কম পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নয়, শৈশবে কম চিনি গ্রহণকারীদের মধ্যে ডিমেনশিয়া তুলনামূলক দেরিতে শনাক্ত হয়েছে। বেশি চিনি গ্রহণকারীদের তুলনায় তাদের গড়ে প্রায় ২ দশমিক ৬ বছর পরে ডিমেনশিয়া ধরা পড়ে।

গবেষণার লেখক ও হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক জিয়াজেন ঝেং বলেন, ফলাফল থেকে ধারণা করা যায়, জীবনের একেবারে শুরুর দিকে চিনি গ্রহণ সীমিত রাখা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এ গবেষণা চিনি গ্রহণ ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়; সরাসরি কারণ ও প্রভাবের প্রমাণ দেয় না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ। টাফটস ইউনিভার্সিটির ফুড অ্যাজ মেডিসিন ইনস্টিটিউটের পরিচালক দারিউশ মোজাফফারিয়ান বলেন, গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আনলেও শুধু চিনি কম খাওয়ার কারণেই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

তার মতে, চিনি রেশনিংয়ের আগে ও পরে জন্ম নেওয়া মানুষের খাদ্যাভ্যাস, মোট ক্যালোরি গ্রহণ, পুষ্টির মান ও জীবনযাপনে একাধিক পার্থক্য ছিল। ফলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমার ক্ষেত্রে শুধু চিনির ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।

গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, গবেষকেরা ব্যক্তিভেদে প্রকৃত চিনি গ্রহণের পরিমাণ সরাসরি পরিমাপ করেননি। বরং ঐতিহাসিক চিনি রেশনিং ব্যবস্থাকে একটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাই সামাজিক পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত পার্থক্যও গবেষণার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু চিনি কমানোর ওপর নির্ভর না করে গর্ভাবস্থা ও শৈশব থেকেই সামগ্রিক সুষম পুষ্টির দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম, মাছ ও পুষ্টিকর দুগ্ধজাত খাবার রাখা এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও উচ্চমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের, জানাল ভারত

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের, জানাল ভারত