ঢাকা | খ্রি.

সার্কে শিশু ক্যানসারে আক্রান্তদের প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং | Photo Card
সার্কে শিশু ক্যানসারে আক্রান্তদের প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতে ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক: দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) আট সদস্য দেশে ২০২২ সালে নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ শিশু।

চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ—সাউথইস্ট এশিয়া-তে প্রকাশিত নতুন এক জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় ২০২২ সালের গ্লোবোক্যানের তথ্য ব্যবহার করে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় শিশুদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে সার্ক অঞ্চলে আনুমানিক ৩৭ হাজার ৭১৬ শিশু নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৩৯, যা মোট আক্রান্তের ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানে আক্রান্ত হয় ৭ হাজার ৮৪১ শিশু, যা সার্ক অঞ্চলের মোট আক্রান্তের ২০ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে গবেষকদের মতে, শুধু বিপুল জনসংখ্যার কারণেই ভারতের আক্রান্তের সংখ্যা এত বেশি নয়। বিভিন্ন দেশে বয়সভিত্তিক ক্যানসারের হার ও মৃত্যুহারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এসব পার্থক্য দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগে বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।

লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত বেশি

সার্কভুক্ত আট দেশেই শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসার। মোট শিশু ক্যানসারের প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশই লিউকেমিয়া। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১২ শতাংশ।

গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুদের ক্যানসার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসারের তুলনায় ভিন্ন। জীবনযাপন বা অসচেতনতার কারণে সাধারণত শিশুদের ক্যানসার হয় না এবং প্রচলিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি আগেভাগে প্রতিরোধও করা যায় না। তাই শিশুর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মৃত্যুহারে বড় ব্যবধান

গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক ছিল ‘মর্টালিটি-টু-ইনসিডেন্স রেশিও’, অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় মৃত্যুর হার। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এ অনুপাত শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে কম—শূন্য দশমিক ৩০। বিপরীতে আফগানিস্তানে এটি সর্বোচ্চ—শূন্য দশমিক ৫৭।

গবেষকদের মতে, এই ব্যবধান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর চিকিৎসা অবকাঠামো, রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসাসেবার সক্ষমতার বড় পার্থক্য তুলে ধরে। বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের টিউমারের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। অথচ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৩০ শতাংশেরও নিচে। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসার সুযোগের সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সংকট, ভুল চিকিৎসা এবং চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কারণে এসব দেশে শিশু ক্যানসারে মৃত্যুহার বেশি।

প্রয়োজন আঞ্চলিক সহযোগিতা

গবেষকরা শিশু ক্যানসার মোকাবিলায় সার্ক অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি দেশে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ক্যানসার রেজিস্ট্রি গড়ে তোলা এবং লিউকেমিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শিশু ক্যানসারের চিকিৎসায় মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারতের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন গবেষকরা।

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের অধিকাংশ ক্যানসারই নিরাময় সম্ভব। কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক শিশুকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা দূর করে সব শিশুর জন্য দ্রুত রোগ নির্ণয় ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজধানীতে অপরাধ বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৪৩১

রাজধানীতে অপরাধ বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৪৩১