ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতে নতুন শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 9, 2025 ইং | Photo Card
ভারতে নতুন শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত
ad728

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বিশেষ করে ভারত থেকে চাল আমদানি এবং কানাডা থেকে সার আমদানির ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারে। কারণ উভয় দেশের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই থেমে আছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে তিনি আমেরিকান কৃষি খামারিদের জন্য বহু বিলিয়ন ডলারের সাহায্য প্যাকেজ ঘোষণা করেন এবং ভারতসহ এশীয় দেশগুলো থেকে কৃষিপণ্য আমদানির তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি দাবি করেন, এসব আমদানির কারণে মার্কিন দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আমেরিকান কৃষকদের রক্ষায় তিনি শুল্ককে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন। ট্রাম্প জানান, প্রশাসন আমেরিকান কৃষি খামারিদের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা বরাদ্দ দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে শুল্ক হিসেবে যে অর্থ পাচ্ছে, তা থেকেই আসবে। তিনি বলেন, আমরা সত্যিই ট্রিলিয়ন ডলার নিচ্ছি, যদি ভেবে দেখেন। বিভিন্ন দেশ আমাদের এমনভাবে সুযোগ নিয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। ট্রাম্প দাবি করেন, আগের প্রশাসনের রেখে যাওয়া মূল্যস্ফীতি ও পণ্যমূল্যের পতনের কারণে কৃষিক্ষেত্রে যে ধস নেমেছিল, তাকে সামলে তুলতে এই সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।ট্রাম্পের ভাষায়, কৃষি খামারিরা আমাদের দেশের এক অমূল্য সম্পদ, আমেরিকার মেরুদণ্ডের অংশ। তিনি বলেন, শুল্ক আরোপ তার কৃষি পুনরুদ্ধার কৌশলের মূল চালিকাশক্তি। আলোচনার এক পর্যায়ে ভারত বড় করে সামনে আসে, বিশেষ করে চাল আমদানি প্রসঙ্গে। লুইজিয়ানার এক খামারি জানান, ভারতীয় চাল আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে। যখন ট্রাম্পকে জানানো হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া চালের ‘দুটি সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ডই ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন’, তখন তিনি বলেন, ঠিক আছে, আমরা এটা দেখে নেব।

দারুণ। এটা খুবই সহজ। শুল্কই আবার সমস্যা মুহূর্তে সমাধান করে দেবে। তিনি আরও বলেন, ওদের এভাবে ডাম্পিং করা উচিত নয়। আমি এটা আগে অন্যদের কাছ থেকেও শুনেছি। এটা চলতে পারে না। তিনি কানাডা থেকে আমদানি হওয়া সারের ক্ষেত্রেও শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, অনেক সার কানাডা থেকে আসে, তাই প্রয়োজনে এর ওপর খুব কঠোর শুল্ক বসানো হবে। এভাবেই দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো যায়। তিনি আরও যোগ করেন, এগুলো আমরা এখানেও উৎপাদন করতে পারি- সবই করতে পারি।

গত এক দশকে ভারত-মার্কিন কৃষি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রে বাসমতিসহ নানান ধরনের চাল, মসলা, সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি করে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাদাম, তুলা ও ডাল আমদানি করে। তবে ভর্তুকি, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় দাখিল করা অভিযোগ- বিশেষত চাল ও চিনি নিয়ে দুই দেশের আলোচনায় নিয়মিতই টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স