বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর ২টার দিকে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির সাতছড়ি বিওপির একটি টহল দল চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি-তেলিয়াপাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্তের প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে উঁচু-নিচু টিলা ও জঙ্গলে তল্লাশি চালানোর সময় বস্তার মধ্যে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মালিকবিহীন ১৩৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও এক বোতল ভারতীয় মদ পাওয়া যায়।
বিজিবির ধারণা, চোরাকারবারিরা ভারত থেকে মাদকগুলো পাচার করে এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের জন্য দুর্গম বনাঞ্চলে লুকিয়ে রেখেছিল। তবে ওই অভিযানে মাদক পরিবহন বা পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা-বাগান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় ৫৫ বিজিবির তেলিয়াপাড়া বিওপির একটি টহল দল। চোরাকারবারিদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে এমন সন্দেহে একটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে মালিকবিহীন ১৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি জানায়, আগস্ট মাসে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্তসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১৯ বোতল ভারতীয় মদ, ৫০ বোতল ইস্কফ সিরাপ এবং ২ হাজার ৫৮৫ পিস ইয়াবা।
জব্দ করা মাদকদ্রব্য বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, মাদক ও যেকোনো ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে হবিগঞ্জ বিজিবির চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল