প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 18, 2025 ইং
গাজা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব জাতিসংঘে অনুমোদন, গঠন হবে আন্তর্জাতিক বাহিনী
গাজা যুদ্ধের ইতি টানতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করা একটি খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এ পরিকল্পনায় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে একাধিক দেশ অবদান রাখার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সোমালিয়াসহ পরিষদের ১৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কোনো দেশই বিরোধিতা করেনি। রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত ছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আইএসএফ ইসরায়েল ও মিশরের পাশাপাশি একটি নতুন প্রশিক্ষিত ও পরীক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। এর লক্ষ্য, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামাসসহ ‘অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়া’ গতিশীল করা। এখন পর্যন্ত ওই এলাকার পুলিশ বাহিনী হামাসের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার পুনর্গঠনের অর্থায়ন বিশ্বব্যাংকের সমর্থিত একটি ট্রাস্ট ফান্ড থেকে আসবে। আইএসএফ এবং বিওপি উভয়ই একটি ফিলিস্তিনি কমিটি ও পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করবে।নিরাপত্তা পরিষদের ভেটোক্ষমতাসম্পন্ন দেশ রাশিয়া শুরুতে বিরোধিতার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ না নিয়ে বিরত থাকে। এর ফলে প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়। রাশিয়া ও চীন মূলত পিএসহ আরও আটটি আরব ও মুসলিম দেশের সমর্থনের কারণে প্রস্তাবটি আটকে দেয়নি। তবে মস্কো ও বেইজিং উভয়ই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, মূল প্রক্রিয়াগুলোর কাঠামো অস্পষ্ট, এতে জাতিসংঘের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয় এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের অঙ্গীকারও যথেষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেন, প্রস্তাব গ্রহণ যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এদিকে হামাস প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দাবির প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রস্তাব পাস হওয়ার পর টেলিগ্রামে হামাস লিখেছে, পরিকল্পনাটি ‘গাজা উপত্যকার ওপর একটি আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে, যা আমাদের জনগণ এবং তাদের দলগুলো প্রত্যাখ্যান করে। আন্তর্জাতিক বাহিনীকে গাজায় দায়িত্ব পালন করানো, যার মধ্যে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণও রয়েছে, তাদের নিরপেক্ষতা নষ্ট করবে এবং দখলদারের স্বার্থে সংঘাতের পক্ষ হিসেবে দাঁড় করাবে।’
খবর- বিবিসি
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাংলা চ্যানেল