
গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পথে থাকা বাংলাদেশ পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশটি এখন সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি মালয়েশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশের কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নোবেল বিজয়ী ইউনূস স্মরণ করে বলেন, গত বছর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে আনোয়ার বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। আনোয়ারকে "প্রয়োজনে বন্ধু" হিসেবে বর্ণনা করে ইউনূস বলেন— “প্রয়োজনে একজন বন্ধুকে পাশে পাওয়া দারুণ এক অনুভূতি ছিল, বিশেষত যখন আমরা মরিয়া হয়ে কোথাও থেকে সহায়তা খুঁজছিলাম। কারণ তখন আমরা জানতাম না কোন পথে যাচ্ছি। আমরা খুশি হয়েছি সেই সহায়তা পেয়ে এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছি নিশ্চিত করতে যে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে।”
তিনি বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা আনন্দিত যে দেশে শৃঙ্খলা ফিরেছে, অর্থনীতি, প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন আমরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের জন্য নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই আমাদের অনেক সহায়তা প্রয়োজন। আমরা সর্বদা মালয়েশিয়ার সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছি।”
আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও জানান। তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ইউনূস মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী সমাজকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাকে তিনি “অসাধারণ সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেন।
মালয়েশিয়া আমাদের ভালো বন্ধু উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, "রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তাও চায় বাংলাদেশ, বিশেষত আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে। তাই আমাদের যতটা সম্ভব সহায়তা দরকার।"