
নিজেস্ব প্রতিবেদক: নিজের ৮০তম জন্মদিনে পাকিস্তানে কাটানো জীবনের স্মৃতি এবং সেখানকার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন প্রাক্-স্বাধীন ও স্বাধীনোত্তর যুগের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শবনম।
ঢাকায় আয়োজিত জন্মদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘দেহলিজ’খ্যাত কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী বলেন, পাকিস্তানে তার অভিনয়জীবনের অসংখ্য স্মৃতি আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে। সেখানে তার ভক্তরা এতটাই ভালোবাসতেন যে, অনেকেই নিজেদের কন্যাসন্তানের নাম পর্যন্ত তার নামে রেখেছিলেন।
পাকিস্তানের চলচ্চিত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে শবনম বলেন, ‘আমি পাকিস্তানকে খুব মিস করি। আমার হৃদয় চায় উড়ে পাকিস্তানে চলে যাই।’
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তৎকালীন সময়ের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নায়কের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে তার। তবে প্রবীণ অভিনেতা নাদিমের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। তাদের অনস্ক্রিন জুটি একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল।
৮০তম জন্মদিনে পদার্পণ উপলক্ষে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভক্ত, অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী। ১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা শবনম তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উর্দু, বাংলা ও পাঞ্জাবি ভাষার প্রায় ১৬০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
বিশেষ করে পাকিস্তানের কিংবদন্তি অভিনেতা নাদিমের সঙ্গে তার জুটি তৎকালীন চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাদের অভিনীত একাধিক সিনেমা সুপারহিট হয়, যা আজও উপমহাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।
শবনমের ৮০তম জন্মদিন শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি মাইলফলক নয়; বরং এটি বাংলা ও পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের একটি সমৃদ্ধ অধ্যায়েরও স্মরণীয় উপলক্ষ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তার অবদান দুই দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।