নিউজ বাংলা ডেস্ক : লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে অভিযুক্ত করে দেওয়া দেওয়ানি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত আগস্ট মাসের আদালতের আদেশ তালিকায় ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজের বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে চলতি বছরের জুনে ২০২৩ সালের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
২০২৩ সালের ওই মামলায় জুরি ট্রাম্পকে ১৯৯৬ সালে ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে মানহানির জন্য দায়ী করে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান এক বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, আদালত দ্বিতীয়বারের মতো মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে জুরির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এখন চূড়ান্ত এবং এটি আর কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই।
তবে ট্রাম্পের আবেদন খারিজের কারণ আদালত ব্যাখ্যা করেনি। একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট মোট ৩৩টি পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করে।
জুনে ট্রাম্পের আপিলের আবেদন খারিজ হওয়ার পর ক্যারল প্রায় ৫৮ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ ও সুদ পেয়েছেন।
ট্রাম্প ও ক্যারলের আইনি বিরোধের সূত্রপাত ২০১৯ সালে। ওই বছর ক্যারল তাঁর স্মৃতিকথার একটি অংশে অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের বার্গডর্ফ গুডম্যানের পোশাক পরিবর্তনকক্ষে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যারলকে ‘পাগল’ এবং ‘তার পছন্দের নারী নন’ বলে মন্তব্য করেন।
এর বাইরে ২০২৪ সালে পৃথক একটি মানহানি মামলায় জুরি ক্যারলকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আপিল করছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে তিনি সাংবিধানিক দায়মুক্তির অধিকার রাখেন।
প্রায় ৫৮ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলাটি মূলত ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের করা মন্তব্যকে ঘিরে। ওই সময় তিনি ক্যারলের অভিযোগকে ‘ভুয়া’ ও ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
সূত্র: আলজাজিরা