ঢাকা | খ্রি.

প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 16, 2026 ইং | Photo Card
প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : বিএনপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু ঘোষণা করে থেমে থাকে না, বরং তা বাস্তবায়ন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, ৩১ দফা ঘোষণার পরও দলটি ৩২ ও ৩৩ নম্বর হিসেবে আরও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশব্যাপী ইএফটি ও আইবিএস প্লাস প্লাস পদ্ধতিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের পারিবারিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি একজন শিক্ষকের সন্তান হিসেবে গর্বিত। তাঁর বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি হাই স্কুলে পড়ার সময় অবসরে যান। সে সময় তাঁর বাবা দেড় থেকে দুই শ টাকা পেনশন পেতেন এবং পেনশনের টাকা তুলতে ২০ মাইল দূরের উপজেলা সদরে যেতে হতো। ওই সময় কত টাকা অতিরিক্ত দিতে হতো, তা তিনি জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।

বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলটি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে বিএনপি তা বাস্তবায়ন করে এবং ৩১ দফা ঘোষণার পর ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলেছিলেন এবং বেকারত্ব তৈরির কোনো ব্যবস্থা চাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর সময়ে কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শিক্ষকদের অবসর সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টও রয়েছে। এর পাশাপাশি অবসর গ্রহণের পর একজন শিক্ষক পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, গ্রামের একজন দরিদ্র স্কুলশিক্ষকের জন্য এই অর্থের গুরুত্ব অনেক।

আইবিএস প্লাস প্লাসের ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রশংসা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন বাড়িতে বসেই শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থায় কোনো পর্যায়ে উৎকোচ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর কী কী বাস্তবায়ন করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগই তার জবাব। তাঁর দাবি, এগুলোর সবই নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল না। শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস দেওয়ার কর্মসূচিকে তিনি ৩৩ নম্বর উদ্যোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে এবং দরিদ্র মা-বোনদের কথাও ভুলে যাওয়া হয়নি। তাঁদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিরোধীদের আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা একসময় এই কর্মসূচি নিয়ে কটাক্ষ করেছিল, এখন তারাই ফ্যামিলি কার্ড কবে দেওয়া হবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব মা-বোনের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে অর্থনীতিতে গতি বাড়বে, অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে পণ্য কেনাকাটা বাড়ায় সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোও সচল হবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ অর্থ আত্মসাৎ করতে পারেন। কিন্তু দরিদ্র মা-বোনদের হাতে অর্থ গেলে তাঁরা তা পরিবারের প্রয়োজনেই ব্যয় করবেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠবে, তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং সন্তানরা শিক্ষিত হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হবে।

দারিদ্র্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানুষকে দরিদ্র অবস্থায় রেখে দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সরকারের অন্যান্য কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে দেশের সব নাগরিককে প্রয়োজনীয় কর্মসূচির আওতায় আনা হবে এবং তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেবে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স