ঢাকা | খ্রি.

নবম পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে, যেকোনো সময় ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং | Photo Card
নবম পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে, যেকোনো সময় ঘোষণা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় নতুন এই বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে পে স্কেলের খসড়া ইতোমধ্যে নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে সচিব কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

মুখ্য সচিব বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর নতুন কোনো বেতন কাঠামো না থাকায় দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে রয়েছেন। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান সমন্বয়ের স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। সব গ্রেডে একই হারে বেতন না বাড়িয়ে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিকভাবে বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরবর্তী ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে কত ধাপে পে স্কেল কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সমাধানের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এ বি এম আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশে চলমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিগত সরকারের সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা না রাখাকে দায়ী করেন মুখ্য সচিব। সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন এ বি এম আবদুস সাত্তার।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময়সূচি ও কাঠামো মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই স্পষ্ট হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
এসএসসির ফলে বরিশাল বিভাগে এগিয়ে পিরোজপুর

এসএসসির ফলে বরিশাল বিভাগে এগিয়ে পিরোজপুর