ঢাকা | খ্রি.

পার্বত্য চট্টগ্রামে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু পুনর্বাসন: টাস্কফোর্স ঘিরে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 15, 2026 ইং | Photo Card
পার্বত্য চট্টগ্রামে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু পুনর্বাসন: টাস্কফোর্স ঘিরে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে উপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর পার্বত্য এলাকার মানুষের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা হয়।

চুক্তির পর গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিন জেলায় তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এবং ‘ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স’।

এর মধ্যে শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্সটি নিয়েই রয়েছে নানা প্রশ্ন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মতালিকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থান না পাওয়ায় এখনো এর পুনর্গঠন হয়নি। ফলে পাহাড়ের শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে, টাস্কফোর্সটি বর্তমানে কার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর কার্যক্রমই বা কী—এসব বিষয় সামনে এসেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী গঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব আইনের কিছু ধারা ও উপধারা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন বিতর্কও রয়েছে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন নিয়ে এ বিতর্ক উল্লেখযোগ্য। এ আইন বাংলাদেশের একক রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উচ্চ আদালতে রায় দেওয়া হয়েছে। আদালতের ওই রায়ের মূল বক্তব্য ছিল, আঞ্চলিক পরিষদের গঠন এবং তাকে দেওয়া ক্ষমতা বাংলাদেশের সংবিধানে থাকা ‘একক রাষ্ট্র’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ফলে আঞ্চলিক পরিষদ এখনো তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। এই কমিশনের গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো ভূমি সমস্যা।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ভিত্তিতে সরকার ২০০১ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন’ প্রণয়ন করে। ফলে চুক্তির আওতায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ভূমিকা পার্বত্য এলাকার ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লেখক : এ এইচ এম ফারুক 
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ইমেইল : ahmfarukcht@gmail.com
 


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ